হুমায়ূন আহমেদের কোন বই দিয়ে শুরু করবেন
প্রকাশিত:
হুমায়ূন আহমেদের বই হাতে নেওয়ার আগে অনেকেরই একটা প্রশ্ন থাকে: এত বইয়ের ভিড়ে কোনটা দিয়ে শুরু করা ভালো? হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন পারিবারিক গল্প, রহস্য, যুদ্ধের কাহিনী, স্মৃতিকথা, এমনকি এমন চরিত্রের জগৎ, যারা বই ছাড়িয়ে লোকের মুখে মুখে ঘোরে। তাই শুরুর বইটা বেছে নেওয়া ভালো নিজের মেজাজ দেখে। নিচে কয়েকটা পথ দেওয়া হলো।
পরিবার আর একাকীত্বের গল্প চাইলে
শান্ত, ভেতরে ভেতরে ভারী কিছু পড়তে চাইলে শঙ্খনীল কারাগার দিয়ে শুরু করা যায়। ১৯৭৩ সালের এই উপন্যাসে ছয় ভাইবোনের একজন, খোকা, তার পরিবারের কথা বলে। একসময়ের সচ্ছলতা চলে গেছে, আপনজনেরা দূরে সরে যাচ্ছে, আর খোকা ক্রমশ একা হয়ে পড়ছে। হুমায়ূন আহমেদ যে ঘরোয়া ছোট ছোট মুহূর্তে বড় ব্যথা লুকিয়ে রাখেন, তার পরিচয় এখানেই পাওয়া যায়।
রহস্য আর যুক্তির খেলা পছন্দ হলে
তাহলে মিসির আলি। তিনি অস্বাভাবিক মনোবিদ্যার শিক্ষক, অদ্ভুত ঘটনার পেছনে যুক্তির সূত্র খোঁজেন। প্রথম বই দেবী (১৯৮৫) দিয়েই শুরু করুন। রানু নামের একটি মেয়ে অচেনা কণ্ঠস্বর শুনতে পায়, আর মিসির আলি ধাপে ধাপে কারণটা খুঁজে বের করেন। পছন্দ হলে এগিয়ে যেতে পারেন নিশীথিনী, বৃহন্নলা আর অনীশ বইয়ে।
খানিক খ্যাপাটে, খানিক দার্শনিক গল্পের জন্য
হিমুর পথ আলাদা। হলুদ পাঞ্জাবি পরা, খালি পায়ে হেঁটে বেড়ানো এই তরুণ যুক্তির চেয়ে অনুভূতিকে বেশি বিশ্বাস করে। মিসির আলির ঠিক উল্টো। দুজনকে পাশাপাশি পড়লে বোঝা যায়, একই লেখক কত ভিন্ন চোখে পৃথিবীকে দেখতে পারেন। দুই চরিত্রের বইগুলো একসঙ্গে আছে হিমু সিরিজ আর মিসির আলি সিরিজ-এর পাতায়।
কোমল মনের একজন মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইলে
শুভ্র নামের মানুষটি চশমা ছাড়া প্রায় কিছুই দেখে না, কিন্তু মন তার স্বচ্ছ। শুভ্র দিয়ে তার সঙ্গে পরিচয় হতে পারে। তারপর শুভ্র সিরিজের বাকি বইগুলো।
একাত্তরের কথা জানতে চাইলে
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর লেখা কয়েকটি উপন্যাস এক মলাটে পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসসমগ্র বইয়ে। আলাদা করে মনে রাখার মতো আছে জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪), যা তাঁর নিজের এবং কাছের মানুষদের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা থেকে লেখা।
লেখককে চিনতে চাইলে
তাঁর ছেলেবেলা কেমন ছিল, তা জানতে পড়তে পারেন স্মৃতিকথা আমার ছেলেবেলা (১৯৯১)। আর অল্প সময়ে অনেকগুলো স্বাদ পেতে চাইলে আছে ছোট গল্পের বই অদ্ভুত সব গল্প।
কোনো একটা বইকে সেরা বলে দেওয়ার দরকার নেই। হুমায়ূন আহমেদের পাঠক সাধারণত একটা বই দিয়ে ঢোকেন, তারপর নিজের পথ নিজেই খুঁজে নেন।