প্রথম পড়ার বাংলা বই: কবিতা থেকে ফেলুদা, মেজাজ বুঝে বেছে নিন
প্রকাশিত:
বাংলা বইয়ের ভান্ডার এত বড় যে প্রথম বই বাছতেই অনেকে থমকে যান। সেরার লম্বা তালিকার বদলে এখানে মেজাজ ধরে ধরে কয়েকটি পথ দেওয়া হলো: কবিতা, ছোট গল্প, রোমাঞ্চ, গোয়েন্দা আর আজকের পাঠকপ্রিয় লেখা। যে মেজাজটা এখন ভালো লাগছে, সেখান থেকে শুরু করুন।
কবিতা দিয়ে শুরু
গীতাঞ্জলি বাংলায় প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালে, তাতে ছিল ১৫৭টি কবিতা। ১৯১২ সালে লন্ডন থেকে বের হয় এর ইংরেজি রূপ, আর সেই অনুবাদের জন্যই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
বনলতা সেন কবিতাটি প্রথম ছাপা হয় ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বরে বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায়। একই নামের কাব্যগ্রন্থ বের হয় ১৯৪২ সালে, আর কবিতাটি সেই বইয়ের শুরুতে।
সঞ্চিতা নজরুলের নানা বই থেকে বাছাই করা কবিতার সংকলন। এতে আছে "বিদ্রোহী", "সাম্যবাদী", "মানুষ" আর ছোটদের প্রিয় "খুকী ও কাঠবেড়ালী"। বইটি তিনি উৎসর্গ করেছেন রবীন্দ্রনাথকে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা বের হয় ১৯২২ সালে। যাঁরা পুরনো ধাঁচের মহাকাব্য পড়তে চান, তাঁদের জন্য আছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য: ১৮৬১ সালে প্রকাশিত নয় সর্গের এই কাব্য রামায়ণের কাহিনী নিয়ে লেখা, কিন্তু অমিত্রাক্ষর ছন্দে আর নিজস্ব ভাবনায়।
একটি ছোট গল্প, এক বসায়
ছোট গল্প দিয়ে শুরু করতে চাইলে কাবুলিওয়ালা (১৮৯২) ভালো প্রথম বই। কাবুল থেকে আসা ফলওয়ালা রহমত আর কলকাতার ছোট্ট মেয়ে মিনির বন্ধুত্ব, তারপর বছরের পর বছর পেরিয়ে যাওয়ার ব্যথা: কয়েক পাতাতেই গল্পটি পূর্ণ হয়ে যায়।
রোমাঞ্চের খোঁজে
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাঁদের পাহাড় ১৯৩৭ সালে বই হয়ে বের হয়। পাটকলের চাকরি পাওয়া তরুণ শঙ্কর রোমাঞ্চের টানে সুদূর উগান্ডায় গিয়ে রেলওয়েতে কেরানির কাজ নেয়, পর্তুগিজ অভিযাত্রী আলভারেজের সঙ্গে হীরার খনির খোঁজে বের হয়। বুনিপ নামের এক ভয়ংকর জন্তু, কালাহারির জলহীন প্রান্তর, সব মিলিয়ে বইটি কিশোরের সঙ্গে সঙ্গে বড়দেরও টেনে নেয়।
গোয়েন্দা আর বিজ্ঞান
সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা প্রথম আসে ১৯৬৫ সালে, সন্দেশ পত্রিকায় "ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি" গল্পে। গল্প বলে ফেলুদার ভাই ও সহকারী তপেশ, তপসে নামেই যে বেশি পরিচিত। সঙ্গে আছেন রহস্য-রোমাঞ্চ গল্পের লেখক লালমোহন গঙ্গোপাধ্যায়, ছদ্মনামে জটায়ু। একই লেখকের প্রোফেসর শঙ্কু সন্দেশে প্রথম দেখা দেন ১৯৬১ সালে "ব্যোমযাত্রীর ডায়রি" গল্পে, আর পুরো গল্পটাই শঙ্কুর নিজের লেখা দিনলিপির ঢঙে।
আজকের পাঠকের প্রিয় লেখা
বাংলাদেশের হুমায়ূন আহমেদ (জন্ম ১৯৪৮, মৃত্যু ২০১২) প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে ১৯৭২ সালে বই হয়ে বের হয়। তাঁর মিসির আলি প্রথম এসেছেন দেবী (১৯৮৫) উপন্যাসে, আর হিমু ১৯৯০ সালের ময়ূরাক্ষীতে। দুজনকে নিয়েই পরে লম্বা সিরিজ হয়েছে, পাঠকের কাছে যার টান আজও কমেনি: মিসির আলি আর হিমু।
মুহম্মদ জাফর ইকবালের আমার বন্ধু রাশেদ কিশোর উপন্যাস। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় এক মফস্বল শহরের কয়েকজন স্কুলছাত্র কীভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, গল্পটি তাই নিয়ে। ২০১১ সালে মোরশেদুল ইসলাম এ নিয়ে চলচ্চিত্র বানান।
কোথা থেকে শুরু
কিছুই ঠিক না থাকলে কাবুলিওয়ালা দিয়ে শুরু করুন, তারপর ফেলুদার কোনো একটি গল্প। এই দুটো পড়তে সপ্তাহখানেকও লাগবে না, অথচ বাংলা গদ্যের দুই ভিন্ন মেজাজ পাওয়া হয়ে যাবে। কবিতা ভালো লাগলে বনলতা সেন আর সঞ্চিতা পাশাপাশি পড়ে দেখুন, দুই কবির সুর কতটা আলাদা, নিজেই বুঝবেন।